হরিপুরের ভাটাগুলোতে পুড়ছে কাঠ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ

0
185

পরিবেশ নষ্ট করে ফসলি জমিতে অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানোর হচ্ছে কাঠ। হরিপুর উপজেলার প্রতিটি ভাটাতেই প্রায় ৩-৫ একর জমিতে কাঠের খড়ি জমিয়ে ইট তৈরি চলছে। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনবসতি ও কৃষি জমিতে অবস্থিত ইট ভাটাগুলো। ইট ভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও ছাড়পত্র। তবুও চলছে এসব ইট ভাটা। অদৃশ্য অনুমোদনেই অবৈধ ইটভাটা নির্মাণসহ ইট পোড়ানো হচ্ছে । উপজেলার ইট ভাটাগুলো হলো এন আই বি ব্রিকস প্রোপাইটার নজরুল ইসলাম, এম আর ব্রিকস প্রোপাইটোর আনোয়ার হোসেন, আর বি ব্রিকস প্রোপাইটোর রফিকুল ইসলাম, এম এইচ আর(১ ও ২) প্রোপাইটোর হবিবর রহমান চৌধুরী, শুভ ব্রিকস(১ ও ২) প্রোপাইটোর আবু তাহের। অবৈধ প্রতিটি ইট ভাটাগুলোতে পাঁচশত হেক্টর ফসলি জমি ও শত শত বসত বাড়ির মধ্যে চালু করে ইট তৈরি করছে ভাটা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ,এসব ইট ভাটাগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র ও অনুমোদন নেই। ভেটনা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে ছেলে সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। ইট ভাটাটির জন্য এখন আর এখানে বসবাস করার মতো পরিবেশ নেই, বসতবাড়িটির টিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমির কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, ভাটা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি থেকে উৎখাত করার পায়তাঁরা করছে। ফসলি জমি ও গ্রামের পাশেই ইটভাটা। এছাড়াও ওই ইট ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার টন কাঠ ও লাকড়িসহ গাছের গুড়ি জড়ো করা হয়েছে। গাছ কেটে লাকড়ি তৈরি করার জন্যেও রয়েছে নিজস্ব স’মিল। প্রতিটি ভাটার দুই পাশে রয়েছে হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান ক্ষেত ও দুই পাশে রয়েছে ফলদ ও বনজ বাগানসহ শতশত বসত বাড়ি। আবেগ ও কান্না ভড়া কন্ঠে এক যামুন গ্রামের এক বৃদ্ধা বলেন, করোনা কালিন সময়ে কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হোক। আমাদের কেউ নেই। আমরা কোথায় যাব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, আবাসিক এলাকার ভিতরে এসে অবৈধভাবে এ ইটভাটা তৈরি করার ফলে আমরা এখন নিরূপায় হয়ে গেছি। আমরা কোথায় যাব, কার কাছে বিচার দিবো, আমাদের জানা নেই। তারা আরও বলেন, এই ভাটা কর্তৃপক্ষের প্রভাবে এলাকায় মুখ খুলতে পাড়ি না। ভাটা কর্তৃপক্ষের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে রাজি নয়। তবে ওই ফিল্ড এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করলেও ভাটা কর্তৃপক্ষের লোকজন তাৎক্ষনিক সেখানে উপস্থিত হওয়ায় তারা ভয় পেয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।ম এ ব্যাপারে হরিপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসারের সাথে মুঠোফোনে ভাটায় কাঠ জ্বালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ পর্যন্ত হরিপুরে কয়লাভিত্তিক ভাটা গড়ে ওঠেনি তাই যতগুলো ভাটা গড়ে উঠেছে সব কয়টিতে কাঠ জ্বালাচ্ছে তা তো অপেন সিক্রেট বিষয় এটা জানার কোন বিষয় নয় । কাঠ জ্বালাচ্ছে ? এটি জ্বালানো যাবে কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনি ভালো জানেন ,আইন দেখে নিবেন ! সব জেনেও প্রশ্ন করছেন কেন ?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে