হরিপুরের কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করছে বালিয়াডাঙ্গী

0
320

ঠাকুরগাঁওযের বালিয়াডাঙ্গীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে এসে প্রেমিকের বিয়ে হওয়ার কথা শুনে প্রাণ গেছে এক অনার্স পড়ুয়া কলেজছাত্রীর।

তবে কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে প্রেমিকের পরিবার।

মৃত কলেজছাত্রী মরজিনা বেগম (২১) ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী ও হরিপুর উপজেলার ৪ নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়ন এর চৌরঙ্গী রনহাট্টা গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

প্রেমিক রাসেল আলীর বাড়ী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের গ্রামের পিতাইচুরি গ্রামে। সে ওই এলাকার সায়েদ আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শুক্রবার সকালে মরদেহ নিয়ে আসার ব্যবস্থা চলছে বলে জানান ওই কলেজছাত্রীর বাবা সাইফুল ইসলাম। তার আত্মীয়-স্বজন সকলেই রংপুর মেডিকেলে কলেজছাত্রীর মরদেহ নিতে গেছেন বলে কলেজছাত্রীর ভাই জানিয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নিজ বাড়ীতে থেকে প্রেমিকের বাড়ীতে আসে ওই কলেজছাত্রী। তবে কখন মারা গেছে তার সঠিক সময় বলতে পারেনি মেয়েটির পরিবার।

বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, কলেজছাত্রী মরজিনা বেগম তার বাড়ী থেকে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক রাসেলের বাড়ীতে আসার পর রাসেলের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে বলে জানার পর গ্যাস টেবলেট খায়। প্রেমিকের পরিবারের লোকজন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানকার ডাক্তার তাকে রংপুরে রেফার্ড করে। পরে সেখানে সে মারা গেছে বলে প্রেমিক রাসেলের পরিবার ও মেয়েটির পরিবার আমাকে জানিয়েছেন।

আগামীকাল শনিবার এ বিষয়ে মেয়েটির এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান বালিয়াডাঙ্গী থানায় আসার কথা রয়েছে।

মেয়ের বাবা সাইফুল ইসলাম ও তার ভাই জানান, গেল পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রাসেল ও মরজিনার। আদালতে বিয়ে করেছে বলে আমাদের জানিয়ে একাধিকবার আমার বাড়ীতে রাত্রিযাপন করেছে প্রেমিক রাসেল। আমরা দুজনের সম্পর্ক মেনেই নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ মরজিনা বৃহস্পতিবার সকালে রাসেলের বাড়ীতে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়। এরপরে আমরা মৃত্যুর খবর পাই।

মেয়ের বাবা সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, আমার সহজ সরল মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করার পর রাসেল গোপনে বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে সহ্য করতে না পেরে তার কাছে গেলে আমার মেয়েকে গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। মরদেহ নিয়ে আসার পর আমরা আইনের আশ্রয় নিবো।

শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী থানায় খোজ নিয়ে জানা গেছে কলেজছাত্রীর পরিবার কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে