সাইকেল বালিকারা এখন কন্যারত্ন

0
169

‘সাইকেল বালিকা’রা এখন কন্যারত্ন। ওরা এখন জেলার অ্যাম্বাসাডর। মুজিববর্ষ উপলক্ষে কিশোরী নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দরিদ্র ও মেধাবী কিশোরীদের সাইকেল উপহার দিয়ে কন্যারত্ন ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের স্বনামধন্য সফল নারীদের অংশগ্রহণে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে উঠান-বৈঠক পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। ওই কিশোরীরা নিজেরাই এখন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করছে, যৌতুকবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, অনগ্রসর নারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতন করে তুলছে। সম্প্রতি জুম বৈঠকের মাধ্যমে কন্যারত্নদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন ও রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এতে কিশোরীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আত্মবিশ্বাস। তারা নিজেরাই এখন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করছে, স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে পরিবারে, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের নারীদেরও সচেতন করছে। সাইকেলে চড়ে এপাড়া-ওপাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। বাল্যবিয়ের সংবাদ পেলেই প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিরোধ করছে কন্যারত্নরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১ হাজার ৭২০ জন কিশোরীকে সাইকেল উপহার দিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের ঘোষণা করা হয়েছে কন্যারত্ন, জেলার অ্যাম্বাসাডর। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যাবর্তন দিবসে এই প্রকল্প চালু করেন জেলা প্রশাসন। ‘আমাদের কন্যারত্ন আমাদের অ্যাম্বাসেডর, সুস্থ কিশোরী নিরাপদ আগামী’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে ওই সাইকেল বালিকাদের স্বাস্থ্য সচেতন করা হচ্ছে। উঠান-বৈঠকের মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক এলাকার কিশোরীদের মধ্যে দেশের সফল নারীরা বাল্যবিয়ের কুফল ও প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক নানা পরামর্শ প্রদান করছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষাসহায়ক উপকরণ হিসেবে স্কুলগামী দরিদ্র ও মেধাবী কিশোরীদের বাইসাইকেল উপহার দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানদের অনুরোধ জানান পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু জানান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানেরা জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জেলার ৪৩টি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এলজিএসপি প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের ৪০ জন কিশোরীকে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়। বর্তমানে সাইকেল উপহার পাওয়া কিশোরীরা বাল্যবিয়ে এবং প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটা জেলা প্রশাসনের সফল উদ্যোগ। তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া বলেন, ‘সাইকেল পেয়ে যাতায়াত খরচ যেমন কমেছে, তেমনি জুম উঠান-বৈঠকের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু শিখছি। আগে আমি প্রজনন বিষয়ে কিছুই জানতাম না। মেয়েদের স্বাস্থ্য বিষয়ে, বিশেষ করে মিনিস্ট্রেশন আমরা গোপন করে রাখতাম। এখন গোপন করি না। শেয়ার করি। খাদ্য সচেতনও ছিলাম না। স্কুলে টয়লেটে যেতে লজ্জা পেতাম। জুম মিটিংয়ে সফল নারীরা সবকিছু ভেঙে দিয়েছেন। আমার এখন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’ স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিকসহ সর্বস্তরে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংকট কেটে গেলে এই কিশোরীদের সরাসরি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তেঁতুলিয়া উপজেলার মমিনপাড়া গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, ‘আমি সত্যি অবাক হয়েছি। আমার মেয়ে এখন আমাদের পরিবাবের সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা বলছে। বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে আলোচনা করছে। আমার মেয়েকে কন্যারত্ন ঘোষণা দেওয়ায় আমি খুশি।’ এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে ১ হাজার ৭০০ কিশোরী প্রজননস্বাস্থ্য ও বাল্যবিয়ে সম্পর্কে সচেতন হবে। সমগ্র কর্মসূচি ফেসবুক লাইভ, লোকাল সিটি ক্যাবলের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। ফলে ওই কিশোরীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক এবং এলাকাবাসীও প্রজননস্বাস্থ্য ও বাল্যবিয়ে সম্পর্কে সচেতন হবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে