সংগীত জগতের বিস্ময় রুনা লায়লা

0
116

উপমহাদেশের সংগীত জগতের কিংবদন্তি রুনা লায়লা। তার কণ্ঠে যুগের পর যুগ মুগ্ধ হয়ে আছে শ্রোতারা। কয়েক দশক ধরে খ্যাতির চূড়ায় অবস্থান করছেন তিনি। গতকাল ছিল তার ৬৮তম জন্মদিন। ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন এই গায়িকা।
রুনা লায়লার বাবার নাম এমদাদ আলী ও মায়ের নাম অনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা। সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন রুনা। তার মা সংগীতশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। বিখ্যাত সংগীতশিল্পী সুবীর সেন রুনা লায়লার মামা।

রুনা লায়লার শৈশব কেটেছে পাকিস্তানের করাচিতে। ১৯৫৫ সালের মার্চে রুনার যখন আড়াই বছর বয়স, তখন তার বাবা রাজশাহীর এমদাদ আলী বদলি হন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে। সেখানেই বড় হয়ে ওঠা তার।

চার বছর বয়সেই নাচ শিখতেন রুনা লায়লা, গানের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ বা ভালোবাসা গড়ে ওঠেনি তখনও। বড় বোন দীনা লায়লাকে গান শেখাতে যে ওস্তাদ আসতেন, তার সামনেই খেলার ফাঁকে ফাঁকে মাঝে মাঝে বসে যেতেন বোনের সঙ্গে। সেই ওস্তাদজিই একদিন তার মাকে জানালেন তাকে গান শেখানোর কথা।

প্রখর স্মৃতিশক্তির কারণে ঐটুকু বয়সেই যে কোনো গান তুলে মুখস্থ করে ফেলতেন অনায়াসেই। আর সঙ্গে ছিল তাল লয় আর সুরের জ্ঞান। এইসব গুণেই শিশু রুনা লায়লার মাঝে আগামীর শিল্পীর সম্ভাবনা হয়তো দেখেছিলেন সেই সংগীত শিক্ষক।

তবে, মেধাবী হলেও শৈশবে প্রচণ্ড ফাঁকিবাজ ছিলেন বলে দাবি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা এই কণ্ঠসম্রাজ্ঞীর। গান শেখা শুরু করার পর কখন যে এই ব্যাপারে এত সিরিয়াস হয়ে উঠেছিলেন তা নিজেও টের পাননি।

খুব কম বয়সেই প্লেব্যাকের মাধ্যমে অল্পদিনেই খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেন রুনা লায়লা। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ও মা আমেনা লায়লার দ্বিতীয় সন্তান রুনা লায়লা ক্রমেই হয়ে ওঠেন উপমহাদেশীয় সংগীত জগতের এক বিস্ময়কর নাম।

প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ারে মোট ১৮টি ভাষায় দশ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে