রাণীশংকৈলে জাহাঙ্গীর হত্যার প্রধান আসামী মুশা মাষ্টার গ্রেফতার !

0
484

আনোয়ার হোসেন আকাশ রাণীশংকৈল থেকে…

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাচা ভাতিজার মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার মামলার প্রধান আসামী মুশা ওরফে মুশা মাষ্টারকে(৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার তিন মাস পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি(তদন্ত)আব্দুল লতিফ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় মুশা মাষ্টারকে আটক করতে সক্ষম হন।
এ তথ্য নিশ্চিত করে মঙ্গলবার সন্ধা ৫টায় প্রেস বিফ্রিং করেন রাণীশংকৈল সার্কেলের এএসপি তোফাজ্জল হোসেন।
প্রেস বিফ্রিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম জাহিদ ইকবাল ওসি(তদন্ত)আব্দুল লতিফ প্রেস ক্লাব সভাপতি ফারুক আহাম্মদ সরকারসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা
।এ ঘটনার মামলায় ইতিমধ্যে এজাহার নামীয় ৯জন ও অজ্ঞাতনামা ৬জনকে আটক করে পুলিশ। প্রেস বিফ্রিংয়ে এএসপি আরো জানান, এজাহার নামীয় মোট ১৪ জন আসামীর মধ্যে আকবর আলী, বেলাল, মুকুল নামে তিনজন আসামী পলাতক রয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ভরনিয়া সম্পদবাড়ী এলাকায় প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাচা ভাতিজার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২২ জন আহত ও জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি ঐ দিন সন্ধায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনার মামলায় দশজনকে আটক করে ঠাকুরগাঁও আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভরনিয়া সম্পদবাড়ী এলাকার হাজ্বী ইসমাইল হোসেন(৫০) ওরফে নাবালক চেয়ারম্যান তার ব্যবসায়ীক হাসকিং মিলের পাশের জমিতে ইট দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজ করছিলেন।
সে-সময় ঐ জমির দাবিদার তারই বংশীয় ভাতিজা মুশা ওরফে মুশা মাষ্টার দলবল নিয়ে এসে প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেয়। বাধা দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রুপ নেয়। পরিশেষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম শুরু হয়। এতে হাজ্বী ইসমাইলের পরিবারের লোকজন বেদড়ক মারপিটসহ গুরুতর জখম হয়। পরে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম জানান, উভয় পক্ষের মোট ২২ এখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়।
এর মধ্যে তিনজন গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। তিনজনের মধ্যে জাহাঙ্গীর নামে একজন দিনাজপুর মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধায় মারা যায়।
মারা যাওয়া ব্যক্তি হাজ্বী ইসমাইল হোসেনের বংশীয় ভাতিজা ও তার পক্ষের লোক বলে জানা যায়। এ ঘটনায় হাজ্বী ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মুশা মাষ্টার ওরফে মুশাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় মালামাল লুট হত্যাসহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুশার লোকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা চালিয়ে। পরে শুক্রবার(৭ আগষ্ট) তাদের আটক দেখিয়ে ঠাকুরগাঁও আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয় থানা পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে