পৌর-ইউপি নির্বাচনে ভোট হবে ইভিএমে

0
414

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পৌরসভার ভোট এবং আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য বর্তমানে পদে থাকা পৌর মেয়রদের অনেকেই করোনাকালে নির্বাচনের আয়োজন না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন।

ইসি সূত্রে জানা যায়, এবার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা করছে কমিশন। তবে কয় ধাপে করা হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা না হলেও আপাতত পৌরসভার নির্বাচন করার দিকে নজর কমিশনের। ইতিমধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে কমিশন। ইভিএমের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি। যে কোনো নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ১ লাখ ১৬ হাজার ইভিএম প্রস্তুত আছে। আমরা দেড় লাখের মতো চাহিদা দিয়েছি। সেখান থেকে আমরা এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৬ হাজার গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা এখন পরিকল্পনা করছি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য। আমাদের অতীত ইতিহাস বলে এসব জায়গায় সহিংসতা হয় বেশি। এ জন্য মাননীয় কমিশন আমাদের নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, এসব ইলেকশনে মেক্সিমাম ইভিএম ব্যবহার করার জন্য। সেই প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। যেহেতু কয়েক ধাপে নির্বাচন হবে সেহেতু আমরা সর্বোচ্চ ইভিএম ব্যবহার করব যাতে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারি। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মতো সব কাজ এগিয়ে রাখছে সংশ্লিষ্ট দফতর। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভাগুলোর বর্তমান অবস্থা জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখা। তবে দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে বেশ কিছু পৌরসভায় ভোট হচ্ছে না। এবার সেগুলোর জট খুলবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন ইসি কর্মকর্তারা।

ইসি সূত্র জানায়, প্রথম দিকে যেসব পৌরসভায় নির্বাচন করা যেতে পারে সেগুলোর একটি তালিকা করার পরিকল্পনা করে কমিশন। যে তালিকাটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর শপথ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ; সীমানা পরিবর্তন বা ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এমন পৌরসভার বিবরণী; সীমানা বা ওয়ার্ড বিন্যাসজনিত কারণে স্থগিত অথবা ইতিপূর্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এরূপ পৌরসভার তথ্য ও সর্বশেষ অবস্থা; মামলাজনিত কারণে ইতিপূর্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি অথবা নির্বাচন স্থগিত হয়েছে এরূপ পৌরসভার তথ্যসহ মামলার বর্তমান অবস্থা ইসিকে জানাতে বলা হয়।

ইসি সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে নির্বাচনযোগ্য পৌরসভা রয়েছে ৩২৮টি। এর মধ্যে নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে ২৫৬টি। তবে এই সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে। কেননা, মামলাসহ আইনি জটিলতার কারণে বেশ কিছু পৌরসভার নির্বাচন আটকে আছে। দেশের নির্বাচিত পৌরসভাগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় একযোগে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হয়। বেশির ভাগ পৌরসভায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শপথ নেন মেয়র ও কাউন্সিলররা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ হিসাবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বেশির ভাগ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২০ অনুযায়ী, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। এ হিসাব অনুযায়ী যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে সেগুলোতে নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কোনো কারণে এ সময়ের মধ্যে ভোট করা না গেলে জানুয়ারিতে ভোট করতে চায় কমিশন। এবার মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ও কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে।

জানা যায়, এর আগে এক দিনে ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা পাওয়ার পর এবারও একদিনে নাকি ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। তবে করোনা সংকট পরিস্থিতি ও স্কুল খোলা এবং বার্ষিক পরীক্ষার তারিখ বিবেচনা করে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরে ভোট হলে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ডিসেম্বরে কোনোভাবে ভোটগ্রহণ করা না গেলে আগামী জানুয়ারির মধ্যে ভোট করতে চায় কমিশন।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে এবং কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে এবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে