পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে ৩ দলের প্রার্থী চূড়ান্ত

0
143

আগামী ২৮ ডিসেম্বর পীরগঞ্জ পৌর নির্বাচন সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরব হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নানামুখী কৌশলে প্রচারণা শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে প্রধান ৩’দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন মেয়র নির্বাচনের জন্য তার মধ্যে আওয়ামীলীগ থেকে কসিরুল আলম,বিএনপি রাজিউর রহমান রাজা,জাপা থেকে তৈয়ব আলীকে মনোনয়ন দেন দল। এসব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পৌর নাগরিকদের মন জয়ের চেষ্টায় তৎপর। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই। নিমন্ত্রণ-দাওয়াত বাদ দিচ্ছেন না কেউ। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিড় করেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি সমর্থকদের দিয়ে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার টানানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ-গ্রুপ খুলে কৌশলী প্রচারণায় নেমেছেন প্রায় সবাই। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনেকে তাদের প্রার্থিতা হওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন।অনেকেই ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করছেন।
এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয় নির্বাচন দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে আয়োজনের আইন পাস হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এবার দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন হওয়াই বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ না থাকায় সব দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে।

নেতাদের মতে, এবার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা।এবার পীরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচনী মাঠে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান পৌর মেয়র কসিরুল আলমকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে পীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজাকে, সেই সাথে ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ইসহাক আলীর ভাই পৌর জাতীয় পার্টির আহবায়ক তৈয়ব আলীকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন দলটি। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি’র অবস্থান সুদৃঢ়। এ কারণে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের এখানে সেভাবে দেখা হয় না। মুলত এই তিন দলের প্রার্থীই ভোটের মাঠে মুল ফেক্টর।

এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কসিরুল আলম বলেন, আমি দলীয় ভাবে মনোনয়ন পেয়েছি। আমার বিস্বাস আমি আবারো নির্বাচিত হবো। আমি পৌরবাসীর কাছে আবেদন করছি আমাকে যেন অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত করার সুযোগ দেন।

অন্য দিকে বিএনপির প্রার্থী রাজিউর রহমান রাজা বলেন,আমি চাই সুষ্ঠ ভাবে নির্বাচন যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তাহলে আমি বিজয়ী হবে। আমি বিজয়ী হলে পীরগঞ্জ পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা উপহার দিতে পারবো।

অপর দিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৈয়ব আলী জানান,আমরা জাতীয় পার্টির এমপি থাকাকালে পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈলে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি আমি নির্বাচিত হলে উন্নয়নের জোয়ার হবে।

ভোটাররা বলছেন সব প্রার্থীরা পরিচিত মুখ কাজেই তাদের সম্পর্কে ভোটারদের আর নতুন করে জানতে হবে না। তাদের ব্যাপারে ভোটাররা মোটামুটি অবগত আছেন। আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় তারা রয়েছেন বেশ ফুরফুরা মেজাজে। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী নিয়ে কথা না উঠলেও নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে গ্রুপিং। প্রকাশ্যে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের বিরুদ্ধাচারণ করছেন। এতে কিছুটা হলেও সংকটে রয়েছে দলটি। তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের ভিতরে বেশ গ্রূপিং চলছে বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় নেতা-কর্মীরা এক হতে না পরলে ভোটের ফলাফল কি হতে পারে, তা নিয়ে শংকায় রয়েছেন নীতি নির্ধারকরা। যদিও নেতারা বলছেন, ভোটের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে। বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে এ পৌরসভা এলাকায় ৩’প্রধান দলের প্রধান্যই বেশী। কারণ তাদের ভোটার -সমর্থক বেশী। এখানে বিএনপি’র রাজনৈতিক অবস্থান ভাল হলেও মামলা হামলার ভয়ে তারা অনেকটা কোন ঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।এদিকে দলীয় প্রতীকে এবং মনোয়নের মধ্যে দিয়ে একক প্রার্থী হওয়ার বিধান হয়েছে এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে