পঞ্চগড়ে গ্রেফতার দুই যুবক

0
111

পঞ্চগড়ে বখাটের উত্যক্তের জেরে এক কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তবে তার মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে ওই কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার ও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই তরুনকে আটক করেছে। ১ নভেম্বর, রোববার রাতে পঞ্চগড় পৌর এলাকার কামাতপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন ওই মহল্লার হবিবর রহমানের ছেলে আহসান হাবীব (১৮) এবং তার সহযোগী মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে নজরুল ইসলাম জনি (২৭)।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পঞ্চগড় থানার উপপরিদর্শক দীন মোহাম্মদ জানান, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এ ঘটনায় তার মায়ের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নজরুল ইসলাম জনিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা মানসিক সমস্যা সন্দেহ করায় আহসান হাবীবকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার এজাহার ও কিশোরীর পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, আহসান হাবিব প্রায় ছয়মাস ধরে ওই কিশোরীকে উত্যক্ত করে আসছিল। রাস্তায় বের হলেই নানাভাবে তাকে উত্যক্ত করত। তিন মাস পূর্বে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে আহসান হাবিব গালমন্দ ও উত্যক্ত করেছিল। এ নিয়ে কিশোরীর প্রবাসী ভাই তার বন্ধুকে দিয়ে সাবধান করেছিল। কিন্ত হাবিবের উত্যক্ত করা থামেনি। এ নিয়ে হাবিবের পরিবার পঞ্চগড় পৌরসভায় উল্টো অভিযোগ করে। ২ নভেম্বর, সোমবার এ নিয়ে দুই পক্ষের সাথে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

কিশোরীর মা ১ নভেম্বর, রোববার রাতে সাংবাদিকদের জানান, প্রায় বছরখানেক আগে আমার স্বামী মারা যাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে আমি বাড়িতে থাকি। এ সুযোগে প্রতিনিয়ত হাবিব তার সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে আমার মেয়েকে নানা কুপ্রস্তাব সহ তুলে নিয়ে বিয়ে করার হুমকি দিত। আমার মেয়ে কিছুতেই হাবিবের সাথে সম্পর্ক করতে বা আমিও ওর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হইনি। ১ নভেম্বর,রোববার সন্ধ্যার পূর্বে হাবিব ও জনি আমার বাসায় এসে মেয়েকে হুমকি দেয়, তার সাথে ভালবাসার সম্পর্ক না গড়লে আমার মেয়েকে তারা তুলে নিয়ে যাবে। নয়ত তিন লাখ টাকা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, হুমকি দেওয়ার পর তার মেয়ে রাতে নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ভাগ্যক্রমে এ অবস্থা দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। তিনি আহসান হাবিব ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম জনির বিচার দাবি করেন।

এক প্রতিবেশি নারী বলেন, মাঝেমধ্যেই হাবিব নেশা করে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিত। এজন্যই হয়ত মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিন বলেন, চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী মেয়েটি ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে ফিরছে। এখন পর্যন্ত সে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

হাবিবের চাচা মো. ইয়াসিন দাবি করেন, প্রতিবেশি কিশোরীর পরিবারের লোকজন কিছুদিন আগে মারপিট করায় তার কিছুটা মানসিক সমস্যা হয়। এ নিয়ে আমরা পঞ্চগড় পৌরসভায় অভিযোগ করেছি। তবে আহসান হাবিবের জন্য নয়, ওই মেয়েটি অন্য কোন কারনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তা আমাদের জানা নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে