ঠাকুরগাঁওয়ে হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

0
229

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর কৈমারি গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে রেজাউল ইসলাম নামে এক যুবককে পৈশাচিক ভাবে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে ঝলসানোর দায়ে মোঃ সুইট আলম (২৪), মেকদাদ বিন মাহাতাব ওরফে পলাশ (২৪) ও মোঃ হাসান জামিল (২৭) নামে তিন জনকে আমৃত্যু ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিএম তারিকুল কবীর জনাকীর্ন আদালতে এই রায় প্রদান করেন।

দন্ডিত আসামিরা হলেন, মোঃ সুইট আলম নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বারিল্যা উত্তরপাড়ার মৃত- আকবর আলি সর্দারের ছেলে, অপর আসামি মেকদাদ বিন মাহাতাব ওরফে পলাশ দিনাজপুর চিরির বন্দর দক্ষিণ পলাশবাড়ী গ্রামের মাহতাব উদ্দিন শাহ্ এর ছেলে ও মোঃ হাসান জামিল ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর সরকার পাড়া গ্রামের বজির উদ্দীনের ছেলে।

আসামী হাসান জামিল ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে পলাতক রয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার আন্ধারমুহা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম স্থানীয় টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে লেখাপড়ার পাশাাপশি ওয়াল্ডভিশন ২১ নামে একটি মাল্টিলেবেল কোম্পানীতে চাকুরি করত। একই সঙ্গে চাকুরি করার সুবাদে দন্ডিত আসামীদের সঙ্গে রেজাউলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারা সকলে মিলে দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে গিয়ে ওই কোম্পানীর নতুন অফিস খোলার কাজ করা কালে নিহত রেজাউলের বাজাজ মোটর সাইকেলের প্রতি অপর বন্ধুদের চোখ পড়ে। তারা ওই মোটর সাইকেলটি নিজেরা হাতিয়ে নিতে রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটে এবং তাকে আসামী হাসান জামিলের বাড়ি এলাকায় জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর এলাকায় নিয়ে আসে।

২০১৫ সালের ৪ মার্চ সন্ধায় দন্ডিত আসামীরা সকলে মিলে নিহত রেজাউল ইসলামকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর কৈমারী গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা মতে তারা রেজাউল ইসলামকে ঘাড় মটকে ও রশি দিয়ে গলায় পেচিয়ে হত্যা করে। পরে তার পড়নের কাপড় ও বাঁশঝাড়ের শুকনা ডালপাতা দিয়ে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে বিকৃত করে।

মামলার এজাহার, আসামীদের স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত উপরোক্ত রায় প্রদান করেন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে