ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন; আটক ৩

0
163

ঠাকুরগাঁও সদর থানায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করার হয়,পরে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টার করলেও ব্যর্থ হয় এবং বাদীপক্ষ মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও বিহারীপাড়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে জারিফ কায়সার বাপ্পি (১৯), একই গ্রামের এরশাদ আলী ছেলে কুরবান আলী (৩২) ও শহরের টিকাপাড়া এলাকার মনতাজ আলীর ছেলে গোপাল (৩০)।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, সদরের বরুনাগাঁও বিহারীপাড়া গ্রামে ঘুরতে আসে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রী এখানে প্রতিবেশি জারিফ কায়সার ওরফে বাপ্পীর সাাথে ওই স্কুলছাত্রীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর সাথে বাপ্পীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বাপ্পী। পরবর্তিতে এক বান্ধবীর মুঠোফোনে বাপ্পীর সাথে তার কথা হয় বাইরে ঘুরতে যাওয়ার এ সুযোগে স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে জারিফ কায়সার ওরফে বাপ্পি শহরের পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় তার ভাবি নুপুর আক্তারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বাপ্পী।

পরবর্তিতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য প্রতিবেশি কুরবান আলী, গোলাপ, মামুন ও বাবু মিলে ওই স্কুলছাত্রী এবং বাপ্পীকে নিয়ে আক্চা ইউনিয়নে পল্টন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জনৈক মকবুলের গ্যারেজে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য স্কুলছাত্রীকে তারা চাপ প্রয়োগ করে। তবে বিষয়টি মিমাংসা রাজি ছিলনা স্কুলছাত্রী।

মিমাংসা না হওয়ায় কৌশলে জারিফ কায়সার ওরফে বাপ্পিকে সেখান থেকে সড়িয়ে দেয় তারা পরে রাতে স্কুলছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায় কুরবান আলী, গোলাপ, মামুন ও বাবু এবং স্কুলছাত্রী কোন ভেবে না পেয়ে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়।

পরে স্থানীয় লোকজন কুরবান ও গোলাপকে আটক করে পুলিশের জরুরী নম্বর ৯৯৯ -এ কল দিয়ে অবহিত করে অন্য দুইজন মামুন ও বাবু পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কুরবান ও গোপালকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর দিন সকালে মামলার ১ নম্বর আসামী জারিফ কায়সার ওরফে বাপ্পীকে শহরের শিল্পকলা একাডেমীর সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষনের পর ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ৩জনকে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে