ঠাকুরগাঁওয়ে চাল সংগ্রহে খাদ্য বিভাগের অনিয়মের অভিযোগ

শর্ত ভঙ্গ করে চাল দেয়নি ৮৬০ চালকল মালিক

0
165

বোরো মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে খাদ্য বিভাগের সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। সরবরাহের চুক্তি করে শর্ত ভঙ্গ করে এক ছটাকও চাল দেয়নি ৮শ’ ৬০ জন চাল কল মালিক। সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে চালের বাজার দর উর্ধ্বমুখী, খাদ্য বিভাগের মোটা অংকের ঘুষ আদায়, অসহযোগিতা আর হয়রানি করার কারণ বলে দাবি করছেন মিল মালিকরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলছেন, এ ধরণের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সদ্য শেষ হওয়া জেলা খাদ্য বিভাগের বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১৩২ মেট্রিক টন ধান। আর ৩২ হাজার ৮শ ৬৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হওয়ার কথা থাকলেও, হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৭শ ২২ মেট্রিক টন চাল। শেষ হওয়া বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের উৎকোচ আদায়, অসহযোগিতা আর হয়রানির অভিযোগ করছেন মিল মালিকরা। তারা বলছেন, চালের বাজার দর উর্ধ্বমুখী ছাড়াও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে প্রতি মিল মালিককে ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়েছে। এই টাকা যারা দিতে পারেননি, তারা হয়েছেন হয়রানির শিকার-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী চালকল মালিকদের। এতে সরকারের ঘরে চাল সরবরাহ করে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের আর চাল দিতে আগ্রহ হারিয়েছে অনেকে।
ঠাকুরগাঁও রোড কালীতলা এলাকার তাজ হাস্কিং মিল ও আফতাব হাস্কিং মিল মালিকের স্বত্তাধিকারী কেরামত আলী টাইগার বলেন, কালার সটার করে মান সম্মত চাল নিয়ে যাই। সদর ও শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি তার চাল নিতে তালবাহানা করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কালক্ষেপন করে ডিসি ফুডের মধ্যস্থতায় পরে সেই চাল গ্রহণ করা হয়। এধরনের হয়রানি করার যৌক্তিকতা কি?

সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকার বাবা-মায়ের দোয়া হাস্কিং মিল মালিক সাইফুল ইসলাম চুক্তি মতে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। বরাদ্দ কৃত চাল সরবরাহ করতে গিয়ে তার হাত দিয়ে দুইটি মিলের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে গুদাম কর্মকর্তাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মানসম্মত চালও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়েছে।

জেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, এ জেলায় ১ হাজার ৬৬০টি অটো ও হাসকিং চাল কল রয়েছে। সব মিল মালিক বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহ করবে বলে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। তবে এর মধ্যে ৮শ ৬০জন চুক্তি ভঙ্গ করে এক ছটাক চালও দেননি। প্রতিকেজি চাল ৩৬ টাকা ও ধান ২৬টাকা মূল্যে খাদ্য বিভাগকে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেছেন ৮শ জন। আর আংশিক চাল দিয়েছেন ১শ’৩৪ জন মিল মালিক।

শর্তভঙ্গ করা এসব মিল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুনিরুল ইসলাম। মিল মালিকদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় ও হয়রানি করার কথা অস্বীকার করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, কোন মিল মালিক এ ধরনের কোন অভিযোগ নিয়ে আসেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে