ঠাকুরগাঁওয়ের পাউবো ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখার কেউ নেই

0
79

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভবন গুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর আবাসিক ভবন গুলো যে যার মতো করে দখল নিয়ে বসবাস করছেন। ভবন জুড়ে ছেড়ে গেছে লতাপাতা ও ঝাড়-জঙ্গলে। সন্ধ্যা হলেই রাত-ভোর পর্যন্ত অপরাধীদের স্বর্গ রাজ্য সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভবন গুলো অযন্তে অবহেলায় পরিতক্ত্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের চার-পাশ পচা দুর্গন্ধ ময়লা-আবর্জনা, ফেন্সিডিলের বোতল, ইঞ্জেকশনের সিরিজসহ অংখ্য ব্যবহিত প্যানথার পড়ে আছে। হঠাৎ যে কারো দেখে মনে হবে, পাউবো যেন গণশৌচাগার, মাদকসেবীদের আসর, ছিনতাইকারীদের আস্তানা ও পতিতা খানা। ভবনের চার-পাশে ঝাড়- জঙ্গল ও সংস্কারের অভাবে ভবনের দেয়াল ও নষ্ট হয়ে গেছে।

হাত দিলেই যেন পলেস্টার খসে পড়ার মতো অবস্থা। আর আবাসিক ভবন গুলো যে যার মতো দখল নিয়ে বসবাস করছেন। পাউবোর এই চিত্র দেখে বোঝার কোন উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন যাবত এই ভবন গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোন সরকারি অফিসার এখানে ঢু মারতেও আসেনা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই পুরো এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কেউ ঢুলকিও মারতে আসেনা। প্রতিরাতেই বসে মাদক ও জুয়ার আসর। আর কিছু প্রভাবশালী যুবক রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত মানুষদের ধরে নিয়ে এসে মালামাল লুট (ছিনতাই) মারপিট করে ছেড়ে দেয়। এবং জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয় পতিতা। আবাসিক ভবন গুলো সব দখল করে যে যার মতো করে বসবাস করছেন। বিদ্যুৎ ও লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চলে অসামাজিক কার্যকালাপ। কিছু বললেই দেয় হুমকি। নাম না প্রকাশের সত্যে অনেকেই বলেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই একটি প্রভাবশালী মহল এখানে মাদক, ছিনতাই, জুয়া, অসামাজিক কার্যকালাপের মতো জঘন্যতম কাজ করে। যা বলার ভাষা নেই।

আমরা এলাকাবাসী ভয়ে দিন-যাপন করছি। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইনা। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি যাতে এই ভবন গুলোতে একটু অভিযান চালায়। সেই সাথে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড’র অফিস গুলো সংস্কার ও আবাসিক ভবন গুলো দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে যেন পুনরায় চালু করে। এব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক বাবু বলেন, রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড’র ভবন গুলো বসবাসের অনুপযোগী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আমার ইউনিয়ন পরিষদ টেক্স পাই। সেখানে খারাপ কাজ করা হয় সেটা এলাকাবাসী আমাদের অভিযোগ দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার বলা হয়েছে ভবন গুলী মেরামত করার জন্য। এ প্রসঙ্গে রুহিয়া থানার ওসি চিত্ররঞ্জন কুমার রায় বলেন, আমি ৩-৪ দিন আগে গিয়ে যা দেখেছি নরমাল দেখছি। এবিষয়ে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রবিউল ইসলাম বলেন, জনবলের অভাবে এই ভবন গুলো পড়ে আছে। আর দেখভালের জন্য দু’একটি ভবন স্বল্প মুল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে