“জনসেবার জন্য প্রশাসন” প্রমাণ করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক

0
332

ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। যোগদানের মাত্র ২বছরের মধ্যে কর্তব্য পালনে ও তার কর্ম দক্ষতায় তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন “জনসেবার জন্য প্রশাসন”।

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী অসহায় গরিব-দু:খিদের সাহায্য-সহায়তা প্রদান, মানুষের খাদ্য,বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে তিনি একজন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে জেলার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এবং সত্যিই জনসেবার জন্য যে প্রশাসন তা মানুষের কাছে বাস্তবায়ন করছেন তিনি।
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে যখন মানুষ আতঙ্কিত তখন জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম তার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও তার পরিবারের তোয়াক্কা না করেই জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে পুষ্টিকর খাদ্য নিয়ে রোগীদের বাড়ি বাড়ি ও চিকিৎসা কেন্দ্র গুলোতে ছুটে গেছেন।
এমনকি গত ৮ আগস্টে তার পিতা ও মাতা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এতে ২৫ শে আগস্ট ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মমতাময়ী মায়ের মৃত্যু হয়। কিন্তু মা হারানোর শোকে তিনি তার কর্ম জীবনে ও কর্তব্যপরায়নে বিন্দু মাত্র দমে থাকেন নি। এবং কি ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে তার দায়িত্ব পালনে জনগণের দোরগড়ায় সেবা পৌঁছাতে নিজেকে অটল রেখেছেন। এখনো তার পিতা ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।

জেলা প্রশাসক নিজ উদ্যোগে বর্তমান প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস জানার ও উপলব্ধির জন্য তার কার্যালয়ে “অদম্য বাংলাদেশ কর্ণার,” স্থাপন করেন এবং বিনোদনের ঘাটতি পূরণে ৫০ বিজিবি’র ২নং গেট সংলগ্ন, গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিপরীতে দৃষ্টি নন্দন “ডিসি পার্ক” ও “মুজিববর্ষ চত্বর” নির্মাণ করছেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষকে আধুনিকায়ন করে সজ্জিত করেছেন। এধরণের আরও অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।
বর্তমান জেলা প্রশাসক ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে মানবতার ফেরিওয়ালা নামে আখ্যায়িত। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দ্রুুুত সেবা পেয়ে ও উপকৃত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ তার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা বলেন, এমন জেলা প্রশাসক হওয়া উচিত যিনি, জনগণের মনের ভাব ও কথা বুঝেন এটাই সাধরণ জনগণের চাওয়া। ঠিক তেমনিভাবে বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জনগণের মনের দোরগোড়ায় স্থান করে নিয়েছেন মানুষের সেবা করে। তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন। ঠাকুরগাঁওবাসী আমরা সকলে তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত প্রফেসর মনোতোষ কুমার দে বলেন, বর্তমান সরকারের যে নীতি, “জনসেবার জন্য প্রশাসন” এটি সফল ভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বর্তমান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন জেলা প্রশাসকের যে আভিজাত্য আছে, সেটাকে ত্যাগ করে ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম সকলের সাথে মিশছেন। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও সাহসী যোদ্ধার মতো ঝাঁপিয়ে পরেছেন করোনার বিরুদ্ধে। তিনি নি:স্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের জন্য। তিনি সকল শ্রেণীর মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন ও সকল মানুষ তার প্রশংসা করছে। তার মতো একজন যোগ্য জেলা প্রশাসক যদি সকল জেলায় থাকে তাহলে প্রতিটি জনপদের চেহারা পাল্টে যাবে। এমন জেলা প্রশাসক পেয়ে আমরা অত্যান্ত খুশি। আমরা তার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করছি।

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা মানুষের দোরগোড়ায় সেবা নিয়ে যেতে চাই। মানুষের যে সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলোকে আমরা নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনকে জনগনের কাছে দায়বধ্য করার লক্ষ্যেই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আমি জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই আমার চিন্তা চেতনা ছিল, ভালো কিছু কাজ করার ও সকল ক্ষেত্রেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার । সে থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে, কর্মের দায়বধ্যতা থেকে, জনগণের কাছে দায়বধ্য হিসেবে, তার নৈতিকতা থেকে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যা তার অবসর গ্রহণের পর জীবনের বাকি সময়টা শান্তি অনুভব ও ভালো থাকার উৎস হবে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে