জটিলতায় সাড়ে তিন লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
121

সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষকের বেতনভাতা এখনও ১৩তম গ্রেডে ফিক্সেশন (নির্ধারণ) হয়নি।  ফলে তারা আগের গ্রেডেই বেতন পাচ্ছেন। এতে তাদের অধিকাংশেরই মন খারাপ। একাধিক সহকারী শিক্ষক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দৈনিক শিক্ষার অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সফটওয়্যার ‘আইবাস’-এ কারিগরি জটিলতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা যায়নি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন আগের মতোই ‘সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলেছেন।’ তিনি শিক্ষকদের জানান, সহকারী শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন যাতে দ্রুত হয়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়  কাজ করছে।

সূত্র জানায়, ১৩তম গ্রেডের নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণ করলে আইবাস সফটওয়্যার তার সিস্টেমে ইনপুট নেয়। কিন্তু ১৩তম গ্রেডের উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণ করলে আইবাসের সিস্টেম কোনো ইনপুট নিচ্ছে না। অথচ নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণ করলে শিক্ষকদের বেতন কমে যাচ্ছে। এ কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় উচ্চ ধাপেই এই শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে এর আগে জানিয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার সহকারী শিক্ষক কর্মরত। তাদের ৬০ শতাংশই নারী। জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন তদবির  ও দেনদরবার করার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৩তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে এই গ্রেডের সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। কারণ, চিরায়ত নিয়মে বেতন নিম্ন ধাপে নির্ধারণ করলে শিক্ষকদের বেতন বর্তমানের চেয়ে কমে যাচ্ছিল।

জানা যায়, সারাদেশের মাঠ পর্যায়ে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডের উচ্চ ধাপে বেতন নির্ধারণের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করেন। হিসাবরক্ষণ অফিস আইবাসে বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ে। সিস্টেম থেকে বারবার নোটিফিকেশন আসছে- ‘উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণ এই পদের জন্য প্রযোজ্য নয়।’ মাঠ পর্যায়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা বলেন, এ বিষয়ে তাদের করণীয় কিছু নেই, যতক্ষণ না আইবাসে উচ্চ ধাপের বেতন নির্ধারণের সিস্টেম এন্ট্রি না করা হয়।

কয়েকজন শিক্ষক দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, তারা দীর্ঘ আলোচনা ও দেনদরবার করে ১৩তম গ্রেড পেয়েছেন করেছেন, কিন্তু তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা হওয়ায় শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।  এই সুযাগে জামাতপন্থী ও অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ায় সংগঠন থেকে বহিষ্কার হওয়া কতিপয় সাবেক নেতা নিজেদের নাম বদলে জামাতপন্থী পত্রিকায় নানা ধরণের বিবৃতি দিয়ে চলছেন। এছাড়া নিজেদের ফেসবুক গ্রুপ খুলেও সরকারবিরোধী নানা অপপ্রচার করে চলছেন। এইসব বিবৃতিদাতারা বদলিসহ নানা বাণিজ্যে লিপ্ত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক হাবিবুর রহমান দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ১৩তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে প্রায় আট মাস আগে। নানা জটিলতার কারণে আজ পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন করা সম্ভব হয়নি। আমরা চাই, দ্রুত এই সফটওয়্যারের সিস্টেম আপডেট করা হোক।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, আইবাসের ইনপুট পদ্ধতিতে পরিবর্তনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। পদ্ধতিগত পরিবর্তন করতে কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে। সেগুলো চলতি মাসের মধ্যেই সমাধান হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে