ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: সুনামগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি সাইফুর গ্রেফতার

0
114

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বার বার জানানো হয়েছিল।

এর আগে এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে শনিবার সকালে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী।

মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সাইফুর রহমান (২৮), রবিউল ইসলাম (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫) ও তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮)।

এদের মধ্যে অর্জুন ও তারেক (২৮) বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে।

আসামিদের মধ্যে সাইফুরের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের দিরাইয়ে, মাছুমের কানাইঘাটে, অর্জুনের জকিগঞ্জে, রনির হবিগঞ্জে এবং তারেকের বাড়ি সুনামগঞ্জে।

ঘটনার রাত থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের খোঁজে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযানের পাশাপাশি আসামিদের গ্রামের বাড়িতেও অভিযান চালায় পুলিশ।

এদিকে এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি আজ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া গণধর্ষণের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সরব সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন। এমসি কলেজের হোস্টেলে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ ও হোস্টেল সুপারের পদত্যাগ দাবি করেছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে শুক্রবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজে গিয়েছিলেন ধর্ষণের শিকার হওয়া সিলেটের দক্ষিণ সুরমা শিববাড়ির ঐ তরুণী। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের ৫-৬ জন নেতাকর্মী তাদেরকে জোরপূর্বক কলেজের বন্ধ থাকা ছাত্রবাসে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণ করে তারা।

এমসি কলেজে তরুণীকে ধর্ষণের সাথে ছাত্রলীগের ৬ জন নেতার সম্পৃক্ততার বিষয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে