কাঁঠালডাঙ্গী টেংরিয়া গ্রামের, শিক্ষক বেলাল হোসেনের মাল্টা

0
169

দুই বিঘায় মাল্টা চাষে সফলতা পাওয়ার পর এখন ছয় বিঘায় চাষ করছেন বেলাল। সেখানে মাল্টার সঙ্গে দার্জিলিং কমলাও লাগিয়েছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে পাঁচ বিঘা জমিতে সাড়ে তিন বছর আগে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেন স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেন। চারা রোপণের দুই বছরের মাথায়ই প্রতিটি গাছ ভরে যায় মাল্টা।
প্রথমে ৫০ শতক মাল্টা চাষে সফলতা পাওয়ার পর এখন ছয় বিঘায় চাষ করছেন বেলাল। সেখানে মাল্টার সঙ্গে দাজিলিং কমলাও লাগিয়েছেন তিনি।

তার মাল্টার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকায়ও। অনেক চাষীই নিজেদের আম, কাঁঠালের বাগান কেটে মাল্টায় দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন।

বেলাল হোসেন জানিয়েছেন,হরিপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কৃষি বিষয়ক কর্মশালা থেকে তিনি মাল্টা চাষ পদ্ধতি বিষয়ে জানেন। সেখান থেকেই তিনি মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে বারি-১ জাতের কলম সংগ্রহ করেন।

তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার কাঁঠালডাঙ্গী(টেংরিয়া) গ্রামে নিজের এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টার কলম রোপণ করেন। রক্ষণাবেক্ষণকারীর মাধ্যমে দিনে দিনে গড়ে তোলেন মাল্টার বড় বাগান।

তিনি টেংরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। কর্মস্থল থেকে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি চাষাবাদ পরিচালনা করেন।

আম-কাঁঠালের চাষীরা জানান, বেলালের বাগানের মাল্টার স্বাদ অন্যরকম। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি গাছে বছরে ৪০ কেজির বেশি মাল্টা ধরে। এই মাল্টা বিক্রি করতে কোথাও যেতে হয় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকে কিনে নিয়ে যান। প্রতিমণ মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬শ থেকে ৪ হাজার টাকায়। গাছে গাছে স্বাদের মাল্টা দেখে এলাকার অনেক চাষী মাল্টা উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আম, লিচু ও কাঁঠালের বাগান থেকে বছরে একবার ফল পাওয়া যায়, আর মাল্টার ফলন সারা বছর। কৃষকরা জানান, বেলালের সুস্বাদু মাল্টার বাগান দেখে এলাকার অনেকেই আম, লিচু ও কাঁঠালের বাগান কেটে মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তারা মাল্টা চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন।

বেলাল হোসেন জানান, যে কোনো ফসলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভজনক মাল্টা চাষ। এক বিঘা জমির বাগান থেকে বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি সম্ভব। খরচের তুলনায় বেশি লাভ হওয়ায় আগামী বছর আরো কয়েক বিঘা জমিতে তিনি ফলন বাড়াবেন।

মাল্টা বাগানে প্রায়ই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অনেকসময় কীটনাশকে কাজ হয় না। রোগবালাইয় রোধে কৃষি বিভাগের যথাযথ সহায়তা পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নইমুল হুদা সরকার বলেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের সহযোগিতায় তৎপর রয়েছেন। হরিপুরের মাটি মাল্টা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা নতুন নুতন মাল্টা বাগান তৈরি করছে। তারা মাল্টা থেকে ভালো লাভ পাচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে